বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জ্যোতিষীকে সরকারি পদে নিয়োগ দিয়ে বিতর্কে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

ভারতের তামিলনাড়ুর নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় আবারও বিতর্কের মুখে পড়েছেন। নির্বাচনে বিজয়ের পূর্বাভাস দেওয়া জ্যোতিষী রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেল–কে মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

রাধান পণ্ডিত শুধু একজন জ্যোতিষীই নন, তিনি বিজয়ের রাজনৈতিক দল টিভিকে–এর মুখপাত্র হিসেবেও পরিচিত। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিজয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তাকে নিয়মিত দেখা গেছে। গত ৪ মে ভোট গণনার সময় টিভিকে অপ্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে যেতে শুরু করলে বিজয়কে অভিনন্দন জানাতে সবার আগে তার বাসভবনে পৌঁছান রাধান পণ্ডিত।

তবে এই নিয়োগ ভালোভাবে নেয়নি বিজয়ের রাজনৈতিক মিত্র ও বিরোধীরা। বিশেষ করে দ্রাবিড় রাজনীতির ঐতিহ্যে কুসংস্কার ও জ্যোতিষচর্চার বিরোধিতা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ফলে জ্যোতিষীকে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর ঘটনায় অস্বস্তি তৈরি হয়েছে জোটের ভেতরেও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশীকান্ত সেন্থিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একজন জ্যোতিষীর কেন মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ কর্মকর্তার পদ প্রয়োজন হবে?”—এমন মন্তব্য করে তিনি বিষয়টির ব্যাখ্যা দাবি করেন।

অন্যদিকে বিরোধী দল ডিএমকে–ও বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণের সুযোগ হিসেবে নিয়েছে। তাদের মতে, প্রশাসনিক পদে নিয়োগে পেশাগত দক্ষতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে গুরুত্ব দেওয়া গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক।

তবে দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে জ্যোতিষী ও রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নতুন নয়। রাধান পণ্ডিতের ক্লায়েন্ট তালিকায় তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা–র নামও ছিল। রাজনৈতিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি জ্যোতিষীর পরামর্শ নিতেন বলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।

গত মাসে অনুষ্ঠিত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে বিজয়ের দল টিভিকে ১০৮টি আসনে জয় পায়। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিএম ও ভিসিকের সমর্থনে সরকার গঠন করতে হয় তাকে। ফলে নতুন এ নিয়োগ জোটের ভেতর অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।