মঙ্গলবার , ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৪ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জ্বালানি সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইল সরকার

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বিকল হয়ে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে আগামী সপ্তাহের শুরু থেকে গ্যাস সরবরাহ আংশিক স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এফএসআরইউতে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এতে শিল্প, বিদ্যুৎ, সিএনজি ও আবাসিক খাতে গ্যাসের চাপ কমে গিয়ে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা চেয়েছেন। জবাবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দ্রুততম সময়ে সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউটি প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করত। কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সিএনজি স্টেশনগুলোতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দীর্ঘ লাইন ও জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী সপ্তাহের শুরুতে দৈনিক ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করা সম্ভব হতে পারে। পরবর্তী সপ্তাহের শেষ নাগাদ এফএসআরইউটি পুরোপুরি সচল হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে বিকল্প জ্বালানি উৎস ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাময়িক ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে। এফএসআরইউর কারিগরি সমস্যা সমাধান হলেই পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।