দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগামী দুই মাসে মোট ৫০ হাজার টন অকটেন আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ডিজেল, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল ও অপরিশোধিত তেল আমদানিরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এপ্রিল মাসে চাহিদা মেটাতে বিপিসি ৫৩ হাজার ৩৬৪ টন অকটেন আমদানি করেছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর সংঘাতের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ায় সরকার আগাম পদক্ষেপ হিসেবে নতুন আমদানি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
মে-জুনে কী আসছে
বিপিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী—
মে মাসে আমদানি হবে
- ৩ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল
- ৪০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল
- ২৫ হাজার মেট্রিক টন অকটেন
- ৭৫ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল
জুন মাসে আমদানি হবে
- ২ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল
- ৬০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল
- ২৫ হাজার মেট্রিক টন অকটেন
- ৭৫ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল
অর্থাৎ দুই মাসে মোট ৫০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আমদানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্রুড অয়েল আমদানিও বাড়ছে
দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)–এ সরবরাহ নিশ্চিত করতে মে ও জুনে আরও ২ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে—
- মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১ লাখ টন মারবান ক্রুড অয়েল
- জুন মাসে সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন এএলসি ক্রুড অয়েল
বর্তমান মজুত পরিস্থিতি
২৮ এপ্রিলের পর বিপিসির গুদামে ছিল—
- ১ লাখ ৮১ হাজার টন ডিজেল
- ৪২ হাজার ৯৩৩ টন অকটেন
- ১৭ হাজার ৬৪০ টন পেট্রোল
এই মজুতে ডিজেল ১৫ দিন, অকটেন ৩৫ দিন এবং পেট্রোল ১২ দিন চলবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সংকট কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
বিপিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি আমদানি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে যেন আর তীব্র সংকট না হয়, সে লক্ষ্যেই আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক তেল সংকটের পর বাজারে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা থাকায় সরকার এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।