বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় অর্থায়নের চাপ, বিনিয়োগ বাড়িয়ে উত্তরণের আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ঢাকা, ১৩ জুন ২০২৬: বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সংগ্রহ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর আরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব শিল্প উৎপাদন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পড়ছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহও কঠিন হয়ে উঠেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মূল্যায়নে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে অতীতের বড় বড় তেল সংকটের তুলনায় আরও বিস্তৃত ও জটিল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার সংস্কার, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্য বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য এবং বিনিয়োগবান্ধব গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারলে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

বৈশ্বিক আর্থিক বাজারের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো তুলনামূলক কম সুদে ঋণ নিতে পারলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে উচ্চ সুদের হার বহন করতে হচ্ছে। ফলে অর্থায়নের সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়ছে, যা বৈদেশিক ঋণের বোঝা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ন্যায্য অর্থায়ন কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করার লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলক সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের বৈদেশিক নীতির অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে “বাংলাদেশ ফার্স্ট”। দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও বহুমুখী করতে প্রথাগত শিল্পখাতের বাইরে নতুন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোতেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সৃজনশীল শিল্প, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং ক্রীড়া অর্থনীতির মতো খাতে সুনির্দিষ্ট নীতিগত সহায়তা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক কূটনীতি, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের মাধ্যমে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ তার উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে।