ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে, যেখানে হঠাৎ করেই জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ঘোষণায় জানান, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নির্দেশনায় রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী ৩০ দিনের জন্য সব ধরনের গণপরিবহনের ভাড়া সম্পূর্ণ ফ্রি করা হয়েছে। শনিবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারি এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন রুপি ব্যয় বহন করবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হঠাৎ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ওপর যে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা সাময়িকভাবে লাঘব করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের জ্বালানিমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক নতুন জ্বালানি মূল্য ঘোষণা করেন। এতে পেট্রোলের দাম প্রায় ৪৩ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ৪৫৮ দশমিক ৪০ রুপিতে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৫২০ দশমিক ৩৫ রুপি। যা পরিবহন খাত ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধি পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে সামগ্রিকভাবে বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে সরকার। তিনি আরও জানান, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত শিগগিরই শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, ফলে জ্বালানি দামের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকারের ফ্রি গণপরিবহন উদ্যোগকে স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখছেন অনেকেই। তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আরও কার্যকর ও টেকসই নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।