বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে বিশ্বের ৬০টি দেশের ওপর নতুন শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশগুলোর পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ জানিয়েছে, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি বন্ধে কার্যকর আইন প্রণয়ন বা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো, কানাডা, ভারত, চীন, জাপান, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, মেক্সিকো ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের প্রধান বাণিজ্য অংশীদাররা। এই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত প্রায় সব পণ্যের প্রতিনিধিত্ব করে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি Jamieson Greer বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য ব্যবহারের ফলে মার্কিন শ্রমিকদের অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয়। তাই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, তাইওয়ানসহ কয়েকটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। অন্যদিকে চীন, ভারতসহ আরও ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

তবে শুল্কগুলো এখনই কার্যকর হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রকে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর এগুলো কার্যকর করতে হবে।

এদিকে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে কাজ করছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে চীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, দেশটিতে কোনো জোরপূর্বক শ্রম নেই এবং এ ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ইউরোপীয় কমিশনও এই শুল্ক আরোপকে ‘অযৌক্তিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ভারতের বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি চলমান বাণিজ্য আলোচনায় চাপ প্রয়োগের কৌশল হতে পারে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, জোরপূর্বক শ্রম মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। তবে শুধুমাত্র শুল্ক আরোপ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর পূর্ববর্তী বেশ কিছু শুল্ক নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করার পর এটি দ্বিতীয় বড় শুল্ক ঘোষণা।