বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে মার্কিন লো-কস্ট এয়ারলাইন্স, কর ছাড়ের দাবি

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

আকাশছোঁয়া জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি এখন বৈশ্বিক বিমান শিল্পে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার বড় ধাক্কা লেগেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্পমূল্যের (লো-কস্ট) বিমান সংস্থাগুলোর ওপর। তুলনামূলক কম ভাড়ায় যাত্রীসেবা দেওয়া এসব এয়ারলাইন্স দীর্ঘদিন ধরেই কম অপারেটিং মার্জিনে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের টিকে থাকাই এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধির এই প্রবণতার পেছনে অন্যতম কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি জেট ফুয়েলের মূল্যে প্রতিফলিত হচ্ছে। ফলস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল খাতে ব্যয় দ্রুত বাড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটে দেশটির প্রধান লো-কস্ট এয়ারলাইন্সগুলোর প্রধান নির্বাহীরা (সিইও) মার্কিন পরিবহন সচিব শন ডাফির সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। বৈঠকে তারা বাড়তি পরিচালন ব্যয় মোকাবেলায় সরকারের কাছ থেকে অস্থায়ী কর ছাড়ের দাবি তুলবেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের নীতিগত সহায়তা না পেলে অনেক সংস্থার জন্য ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

এরই মধ্যে Spirit Airlines, Frontier Airlines, Allegiant Air, Sun Country Airlines এবং Avelo Airlines-এর প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি জোট গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসের নেতাদের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে করের বোঝা কমানো ছাড়া তাদের জন্য ব্যয় সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিমান টিকিটের ওপর বিদ্যমান ৭.৫ শতাংশ ফেডারেল আবগারি শুল্ক এবং প্রতি ফ্লাইট সেগমেন্টে ৫.৩০ ডলার কর সাময়িকভাবে স্থগিত করার জন্য আইন পাস করা জরুরি। এই করগুলো সাময়িকভাবে মওকুফ করা হলে জেট ফুয়েলের অতিরিক্ত ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সমন্বয় করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে এয়ারলাইন্সগুলো।

এ বিষয়ে Association of Value Airlines জানিয়েছে, কর ছাড় দেওয়া হলে জ্বালানি ব্যয়ের বাড়তি চাপের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। এতে শুধু এয়ারলাইন্সগুলোর আর্থিক চাপই কমবে না, বরং যাত্রীদের ওপরও ভাড়ার অতিরিক্ত বোঝা চাপানোর প্রয়োজন কমে আসবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন্সগুলো সাধারণত কম খরচে পরিচালিত হয় এবং তাদের লাভের পরিমাণও সীমিত থাকে। ফলে জ্বালানির মতো বড় ব্যয় যখন হঠাৎ বেড়ে যায়, তখন তারা দ্রুত সংকটে পড়ে। বড় এয়ারলাইন্সগুলো যেখানে কিছুটা হলেও এই ধাক্কা সামাল দিতে পারে, সেখানে লো-কস্ট ক্যারিয়ারগুলোর জন্য পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন হয়ে ওঠে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কর ছাড় অনুমোদিত হলে তা সাময়িকভাবে হলেও এই খাতকে স্বস্তি দিতে পারে। একইসঙ্গে যাত্রীদের জন্য টিকিটের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে, যা ভ্রমণ খাতে চাহিদা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অন্যথায়, বাড়তি খরচের প্রভাব সরাসরি যাত্রীদের ওপর পড়ে টিকিটের মূল্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা ভ্রমণ কমিয়ে অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান খাতের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই সংকট কতটা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।