বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জেআইসি গুম–নির্যাতন মামলা: দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দিচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার আযমী

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দিচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তিনি তাঁর জবানবন্দি প্রদান করছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার এর নেতৃত্বে দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে ১২ জন সেনা কর্মকর্তা আসামি হিসেবে অভিযুক্ত রয়েছেন।

মামলার তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ব্রিগেডিয়ার আযমী তাঁর জবানবন্দি দেওয়া শুরু করেন। সময় স্বল্পতার কারণে সেদিন তাঁর সাক্ষ্য অসমাপ্ত রেখে আজ পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। জবানবন্দিতে তিনি সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া, পরবর্তীতে গুম হওয়া এবং কোথায় ও কীভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন—সে বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্রিগেডিয়ার আযমীর বিরুদ্ধে দেওয়া অবৈধ বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে তাঁকে অবসর প্রদান করে।

এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, শাইখ মাহদীসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা। একই সঙ্গে আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও আদালতে উপস্থিত রয়েছেন।

এদিকে, সোমবার সকালে মামলার গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামিকে ঢাকার সেনানিবাসে অবস্থিত বিশেষ কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন—ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী

এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর এই মামলায় মোট ১৩ জন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। তবে মামলার ১০ জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।