বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সমঝোতা ও সন্ত্রাস দমনে যৌথ অভিযানের প্রস্তাব এবি পার্টির

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ঘিরে সৃষ্টি হওয়া আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা নিরসনে রাজনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দলের একটি প্রতিনিধিদল এই প্রস্তাব তুলে ধরে। প্রতিনিধিদলটি দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে এবং তাঁকে অভিনন্দন জানায়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, স্বৈরশাসনের অবসান এবং আগস্ট বিপ্লব-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের জন্য তারা এই অভিনন্দন জানান।

বৈঠকে এবি পার্টির চেয়ারম্যান তাঁর দল ও নিজ নির্বাচনী এলাকা ফেনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দুটি পৃথক চিঠি হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী ধৈর্য সহকারে প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শোনেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এবি পার্টির উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

বৈঠকে উপস্থিত নেতারা জুলাই-আগস্টের উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্মৃতিচারণও করেন। এবি পার্টির প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা।

বৈঠকে এবি পার্টির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

প্রথমত, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও জটিলতা দূর করতে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমঝোতার পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানানো হয়।

দ্বিতীয়ত, সম্ভাব্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দল, অর্থনীতিবিদ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ‘সার্বজনীন পরামর্শ সভা’ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্য তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তৃতীয়ত, দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং সামাজিক অবক্ষয় দমনে দ্রুত একটি যৌথ অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়। এবি পার্টি মনে করে, এ ধরনের অভিযান সরকারের কঠোর অবস্থানের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে।

চতুর্থত, সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে নির্বাচনী অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গত ১৭ বছরের স্বৈরশাসনের সময় সংঘটিত নির্যাতন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান-এর সময়কার হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

এবি পার্টি আশা প্রকাশ করে যে, রাজনৈতিক সমঝোতা, কার্যকর সংস্কার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।