বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। এই অধ্যাদেশের ফলে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে দায়ের করা সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং এ বিষয়ে নতুন কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটির গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতা একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটায় এবং গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে। এই আন্দোলন পরবর্তীতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

অধ্যাদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে সংঘটিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহালের জন্য আত্মরক্ষাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অনিবার্য হয়ে ওঠে। এ প্রেক্ষাপটে গণঅভ্যুত্থানকারীদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী সুরক্ষা প্রদান প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, যদি কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হয়ে থাকে, তাহলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত আইনজীবীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করা হবে। আবেদন দাখিলের পর আদালত আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবেন না এবং সংশ্লিষ্ট মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাহার হয়েছে বলে গণ্য হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন।

তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্তের জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ দাখিল করা যাবে। কমিশন অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পালন করবে। তবে নিহত ব্যক্তি যদি পুলিশ বা অন্য কোনো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হন, সেক্ষেত্রে ওই বাহিনীর বর্তমান বা সাবেক কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না বলে অধ্যাদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে।

তদন্ত চলাকালে কাউকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সংঘটিত অপরাধমূলক অপব্যবহার, তাহলে কমিশন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন আকারে পাঠাবে এবং আদালত পুলিশ প্রতিবেদনের মতো করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অন্যদিকে, তদন্তে যদি দেখা যায় অভিযোগটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, তাহলে কমিশন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে আদালতে কোনো মামলা বা অন্য আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না বলেও অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে সরকার বিধি প্রণয়ন করতে পারবে বলেও এতে বলা হয়েছে।