বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জুলাই আন্দোলনের হারিয়ে যাওয়া নারী কণ্ঠ খুঁজে বের করা হবে: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকা নারীদের হারিয়ে যাওয়া কণ্ঠস্বর খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা অনেক নারী পরবর্তীতে রাজনীতির অঙ্গন থেকে হারিয়ে গেছেন—তাদের সামনে আনার চেষ্টা করা হবে।

রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-র সাগর–রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় নারী শক্তি’ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম বড় স্টেকহোল্ডার ছিলেন নারীরা। তাই আন্দোলনে সক্রিয় থাকা নারীদের কণ্ঠস্বর আবার সামনে নিয়ে আসা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, তারা রাজনীতি করুক বা না করুক—দেশ পরিবর্তন ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাদের মতামত ও ভূমিকার মর্যাদা দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে একটি বড় প্রশ্ন হচ্ছে—জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় থাকা নারীরা এখন কোথায়। অনেক নারী রাজপথে আন্দোলনে থাকলেও পরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তেমনভাবে দেখা যায়নি। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সফরের সময় তাদের অনেকের সঙ্গেই দেখা হয়েছে, যাদের মধ্যে পরিবর্তনের গভীর আকাঙ্ক্ষা রয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন বা সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে যারা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাদের লক্ষ্য করে নানা ধরনের আক্রমণ করা হয়েছে। এতে অনেক নারী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে রাজনীতি থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সাইবার বুলিংয়ের চাপে ছাত্র আন্দোলনের এক নারী কর্মী নির্বাচনের আগে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ঢাকায় এমন পরিস্থিতি হলে দেশের অন্য অঞ্চলে নারীদের ওপর চাপ কতটা বেশি হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে সরকারের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ক্ষমতার পরিবর্তনের সময় সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। দল–মত নির্বিশেষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতারসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে ‘জাতীয় নারী শক্তি’ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম। এতে মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাত তাবাসসুম, সদস্য সচিব হিসেবে ডা. মাহমুদ আলম মিতু এবং আহ্বায়ক হিসেবে মনিরা শারমিনের নাম ঘোষণা করা হয়।