পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত কৃষকদের জীবিকা চলে জুম চাষে। আধুনিক যুগের সাথে তাল মেলানোর চেষ্টা ও নানা প্রতিকূলতার কারণে জুমসহ কৃষি কাজে আগ্রহ হারাচ্ছে পাহাড়ের কৃষকরা। এর মধ্যে যারা কৃষিনির্ভর জীবন ধারণ করছে তাদের এসব সমস্যা ও প্রতিকূলতার সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে দিন দিন পাহাড়ের জুম চাষিদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা।
পাহাড়ে চৈত্র-বৈশাখে আগুন দিয়ে জঙ্গল পরিষ্কারের মাধ্যমে শুরু হয় জুম চাষের প্রাথমিক প্রক্রিয়া। এরপর শুরু হয় জমি প্রস্তুতিকরণ। বর্ষার শুরুতে পাহাড়ের বুকে চলছে বীজ বপন। ঢালু জমিতে দা দিয়ে গর্ত করে সেখানে ফেলা হচ্ছে ধান, হলুদ, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ। যেগুলো সময়ের পরিক্রমায় বড় হয়ে একসময় ফসলে ভরে উঠবে।
গত অর্থবছরে রাঙামাটিতে ৪৬৮৯ হেক্টর জমিতে ধান, ৩০৪২ হেক্টর জমিতে আদা ও ২০৮৯ হেক্টর জমিতে হলুদ চাষ করা হয়েছে।তবে জমি সঙ্কটসহ আরো বিভিন্ন সমস্যায় অনেক জুমিয়া এখন জুম চাষ ছেড়ে ফল বাগান সৃজনে ঝুঁকে পড়ছে। সাধারণত ৩-৫ বছর পাহাড়ের গায়ে কিছু স্থানে চাষ করে সেই স্থানকে উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য রেখে দিয়ে আবার পাহাড়ের অন্য স্থানে গিয়ে জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদ করা হয়। তবে বর্তমানে জমি সঙ্কটে সেই সুযোগ কমে এসেছে। বার বার একই স্থানে চাষাবাদ করতে থাকায় কমেছে জমির উর্বরতা। প্রয়োজন পড়ছে অতিরিক্ত সারের। পাশাপাশি রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতাসহ ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়া। এতে জুম চাষের প্রতি আগ্রহ কমছে কৃষকদের।
রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের বাসিন্দা সুবিমল চাকমা। পাহাড়ের জমিতে জুম চাষ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও জুম চাষের সাথে জড়িত। কিন্তু বর্তমানে জুম চাষাবাদ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জুম চাষ করে এখন আর আগের মত ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। বেশি বেশি সার দিতে হয়, কীটনাশক দিতে হয়, তারপরও ফসল ভালো হয় না। প্রায় ফসলের গাছই মরে যায়। তাই আগামী বছর থেকে ফলের বাগান করব।.
.