অধস্তন আদালতের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন মামুনুর রশিদ (২৮) ও শুভ (২৬)।
শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজ কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়। সেখানে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন আয়োজিত অধস্তন আদালতের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।
রোববার (৮ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুহাম্মদ তালেবুর রহমান, যিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আটক মামুনুর রশিদ নওগাঁ কোর্টের একজন কর্মচারী। তিনি নিজেকে ভুয়া জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেন এবং পরীক্ষার্থী শুভকে উত্তর লিখতে সহায়তা করছিলেন। এ সময় উপস্থিত স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাকে আটক করে তল্লাশি চালান।
তল্লাশির সময় মামুনুর রশিদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শ্যামল নামে এক ব্যক্তির কাছে প্রশ্নপত্র পাঠাতেন। পরে ওই ব্যক্তি প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে পরীক্ষার্থী শুভকে একটি বিশেষ ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে জানিয়ে দিতেন।
অভিযুক্ত পরীক্ষার্থী শুভ পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় কানের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ডিভাইস ব্যবহার করছিলেন। তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে ডিভাইসটি উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি তার হাতের কব্জিতে বিশেষভাবে লাগানো ব্যাংক কার্ড সদৃশ সিম কার্ড সংযুক্ত একটি ডিভাইসও উদ্ধার করা হয়।
পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দণ্ডবিধির ৪১৭ ধারায় মামুনুর রশিদকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পরীক্ষার্থী শুভকে ১০ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
এ ঘটনায় আলামত জব্দসহ পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর গুলশান বিভাগ সার্বিক সহযোগিতা করেছে বলে জানানো হয়।