বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জামায়াত নেতা খুনের ঘটনা প্রমাণ করে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬

 

ঢাকা মহানগর উত্তরের শের-ই বাংলা নগর দক্ষিণ থানা জামায়াতে ইসলামীর পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি হোমিও ডাক্তার আনোয়ারুল্লাহকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে জানান, গত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ডাক্তার আনোয়ারুল্লাহকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই বর্বর হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই একটি সাধারণ চুরি বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি পরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড।”

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, “এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে জনগণের নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরমভাবে অবনত হয়েছে। ভোররাতে একটি আবাসিক এলাকায় গ্রিল কেটে দীর্ঘ সময় ধরে বাসার ভেতরে অবস্থান করে একজন মানুষকে হত্যা করা এবং নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও আতঙ্কজনক।”

তিনি জানান, নিহত আনোয়ারুল্লাহ একজন মানবিক হোমিও চিকিৎসক এবং সমাজসেবায় নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি ছিলেন। হত্যার আগে হত্যাকারীদের কথোপকথন ও আচরণ থেকে স্পষ্ট হয়েছিল, এটি কেবল লুটপাট নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ড। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে থাকতে পারে।

জমায়াত নেতার এই হত্যাকাণ্ডের পর এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দাবি করেন, “আমি অবিলম্বে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারী ও পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে নিহতের পরিবারসহ দেশবাসীর যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে কোনো নাগরিকের জীবন নিরাপদ না থাকলে রাষ্ট্র তার মৌলিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”

এ ঘটনায় সমগ্র রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত সংকটজনক এবং এ ধরনের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড জনগণের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন, যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে নিরাপত্তাহীনতার পরিস্থিতি আরও প্রকট হতে পারে।