শুক্রবার , ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

“জামায়াত আমিরের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ সারাদেশের নারী সমাজ: রিজভী”

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

 বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জামায়াতের আমির নারীদের সম্পর্কে যে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননামূলক মন্তব্য করেছেন, তা সারাদেশের নারী সমাজের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, সেই ক্ষোভ ঢাকতেই বর্তমানে স্বাধীনতার ঘোষক সংক্রান্ত বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে, কিন্তু প্রতিষ্ঠিত সত্যকে অব্যাহতি দিয়ে আড়াল করা যাবে না।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী জামায়াতের আমিরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী যখন আমাদের মা-বোনদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছিল, তখন সেটিকে তারা কখনো অত্যাচার হিসেবে স্বীকার করেনি, বরং নির্যাতনকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। আজ তারা স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কথা বলছেন—এতে কি জনগণ বিশ্বাস করবে? তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্বার্থে তারা জোর করে মিথ্যা দাবি করতে পারে।

তিনি জামায়াতকে তলব করেন তাদের অতীত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন আচরণের জন্য। রিজভী বলেন, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে জামায়াত বলেছিল তারা নির্বাচন করবে না, কিন্তু পরবর্তীতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। একই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া নির্যাতন ও গৃহবন্দী পরিস্থিতিতেও তাদের প্রতিশ্রুতি অটল ছিল।

রিজভী জামায়াতের মন্তব্যকে দেশের নারীদের প্রতি অবমাননামূলক ও কুরুচিপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, ইসলামে নারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা রয়েছে। ইসলামের প্রথম বাণী গ্রহণকারী ছিলেন হযরত বিবি খাদিজা (রা.)। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাজিক মাধ্যমে নারীদের অবমূল্যায়ন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের কারণে সারাদেশের নারী সমাজ ক্ষুব্ধ।

তিনি আরও বলেন, শবে বরাত একটি পবিত্র রজনি। এই রাতে মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন হন। ধর্মের প্রকৃত তাৎপর্য অনুসরণ না করলে সমাজে অপরাধ, পাপ ও অনাচার বৃদ্ধি পায়।

রিজভী অভিযোগ করেন, কিছু মানুষ ইসলামের নামে রাজনীতি ও ব্যবসা চালিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে চায়, যা ইসলামের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইসলামের আদর্শ অনুসারে কখনো মিথ্যা বলা বা প্রতারণা করা যায় না।

তিনি জোর দেন, নারীদের প্রতি অবমাননামূলক মন্তব্যের দায় এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। রাজনৈতিক স্বার্থে ইতিহাস বা ধর্মকে ব্যবহার করা হলে সমাজের ক্ষতি বৃদ্ধি পাবে।

মহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মাইনুল ইসলাম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।