স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর বাণিজ্য উদার করার মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। তিনি বলেন, এই উদারীকৃত বাণিজ্য থেকে ভোক্তারা সুবিধাভোগী হবেন এবং জাপানের বিনিয়োগ দেশের শ্রম বাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ইপিএ চুক্তি সইয়ের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, ১ হাজার ৭০টি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বাণিজ্য উদার করেছে। এর ফলে প্রতি বছরে রাজস্ব ক্ষতি ২০ কোটি টাকার নিচে থাকবে।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, খাদ্যপণ্য, তুলা ও সুতা সহ একাধিক পণ্যের ওপর ইতোমধ্যেই শূন্য শুল্ক প্রযোজ্য রয়েছে। মেশিনারিজে এক শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হলেও মোট ১,০৩৯টি পণ্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাই তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো বড় রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে না।
শেখ বশির উদ্দিন বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় ১৮ বছরের মধ্যে বাণিজ্য উদার করতে হবে। এই সময় ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হবে। জাপানের বিনিয়োগের ফলে বাংলাদেশে নার্সিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার, কেয়ারগিভার, ডমেস্টিক কেয়ার, ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
তিনি যোগ করেন, বাংলাদেশ ৯২টি খাতে নিজস্ব বাণিজ্য সুযোগ প্রদান করেছে, এবং জাপান ১২০টি খাতে সুযোগ দিয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের শ্রমিক ও পেশাজীবীদের জন্য নতুন চাকরির দরজা খুলবে।