বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জাতিসত্তা রক্ষার স্বার্থে গুমের বিচার অপরিহার্য: চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, জাতিসত্তা রক্ষার স্বার্থে গুমের বিচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আজ থেকে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসিতে) গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। তাজুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আজ শুরু হয়েছে। ১৭ বছরের এক সময়কালে গুমকে সংস্কৃতিতে পরিণত করা হয়েছিল। তখন যেকোনো মানুষকে নির্বিচারে নিখোঁজ করা যেত, আর এসব কাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থাকে ব্যবহার করা হতো, কিন্তু কোনো জবাবদিহি হয়নি।”

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুমের সংস্কৃতি অবসানের জন্য এ বিচার অপরিহার্য। “যদি এ ধরনের ভয়াবহ অপরাধের বিচার না হয়, গুমের সংস্কৃতি আবার ফিরে আসবে। যারা দেশের স্বাধীনতা, বৈষম্যহীন সমাজ বা বাকস্বাধীনতার জন্য নিখোঁজ হয়েছেন, তাদের আত্মা চিরদিন কাঁদবে। এই বিচার আমাদের জাতিসত্তা রক্ষার স্বার্থে অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও জানান, গোপন বন্দিশালায় অনেক বন্দি আট বছর পর্যন্ত আটকে রাখা হয়েছিল, এবং আরও বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। আজ মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিচ্ছেন বিএনপি নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

তাজুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের যে কোনো বড় অফিসার বা ইউনিফর্মধারী হোক, যদি অপরাধ করে, অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। আইনের কাছে জবাবদিহি করতে হবে, আর এসব নিশ্চিত করতে এই বিচার শুরু হয়েছে।”

সাক্ষীর জবানবন্দি সম্পর্কে তিনি জানান, “কিভাবে মানুষকে তুলে নেওয়া হতো, প্রথমে অস্বীকার করা হতো, জমটুপি পরিয়ে নির্যাতন করা হতো, গোপন বন্দিশালায় দিন-রাতের পার্থক্য বোঝা যেত না, অসুস্থ হলে চিকিৎসা কেমন দেওয়া হতো, ওষুধপত্রে কী লেখা থাকতো—এসবের বিস্তারিত বর্ণনা দিচ্ছেন সাক্ষী।”