বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জাতিসংঘের পদে সমর্থন না পাওয়ার অভিযোগ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদূত মুশফিক ফজল আনসারি

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিক ফজল আনসারি অভিযোগ করেছেন, জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আবেদনের ক্ষেত্রে তিনি নিজ সরকারের প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি। এ নিয়ে তিনি সদ্য বিদায়ী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন-এর বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। মুশফিক ফজল আনসারি জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সহকারী মহাসচিব পদে আবেদন করার পর তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তাকে ‘অগ্রসর না হতে’ (not to proceed) নির্দেশ দেন। বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক সমর্থন বা ‘নোট ভারবাল’ না পাওয়ায় তার আবেদন প্রক্রিয়া আর এগোয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত জানান, লাটভিয়ার ব্র্যান্ডস কেহরিসের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পদটি শূন্য হলে জাতিসংঘের এক বিদেশি সহকর্মী তাকে আবেদন করতে উৎসাহিত করেন। বিষয়টি তিনি সরকারপ্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-কে অবহিত করলে তাঁর পরামর্শেই তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

তার দাবি, শুরুতে মৌখিক সম্মতি দিলেও আবেদন জমা দেওয়ার পর তৌহিদ হোসেন বার্তা পাঠিয়ে তাকে অগ্রসর না হতে বলেন। আবেদন ইতোমধ্যে জমা হয়েছে জানালে এরপর থেকে তিনি যোগাযোগে সাড়া দেননি বলে অভিযোগ করেন রাষ্ট্রদূত।

ফেসবুক পোস্টে মুশফিক ফজল আনসারি বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ইস্যুতে দীর্ঘদিন কাজ করার পরও ন্যূনতম সমর্থন না পাওয়ায় তিনি হতাশ। এ ধরনের পদে সদস্যরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সমর্থন প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকেও সহযোগিতা পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তবে তিনি নিজ দেশের সমর্থন নিয়েই এগোতে চেয়েছিলেন।

তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেয়ার করলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত করতে না চাওয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ চাননি।

রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, দায়িত্ব পালনকালে বিদেশে পোস্টিং, জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল। দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের কারণে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করছেন না জানিয়ে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে একটি বই লেখার ইঙ্গিত দেন তিনি।

এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।