মান্দায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে হুমকির সম্মুখীন সংখ্যালঘু পরিবার
নওগাঁর মান্দায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিনিয়ত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এক সংখ্যালঘু পরিবারের লোকজন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গণেশপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের ঋষি পাড়ায়।
ভূক্তভোগী শ্রীরামপুর গ্রামের ঋষি পাড়ার নরেন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে মিলন জানান, শ্রীরামপুর মৌজায় ১৮৯ নং হাল খতিয়ানের মূল মালিক মধু ঋষি’র স্ত্রী কুকি দাসী। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে সতীশ ও শ্রী হরি এবং এক বিবাহিত মেয়ে শুভরাণীকে রেখে যান। এরপর গত ২০২০ সালে মূলধনী কুকি দাসীর দুই নাতী যোগেন এবং মিঠনের কাছ থেকে ৩৭৩ নং দাগে ১১ শতকের মধ্যে ৩ শতক জমি কবলা করে নেন তিনি। দলিল নং ৭৫৩৬/২০। অথচ, একই গ্রামের প্রতিপক্ষ যোতীন্দ্রনাথ ঋষি’র ছেলে জব ঋষি, বিনয় ঋষি এবং পরি ঋষি গংরা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জোরপূর্বকভাবে জমিগুলো অদ্যবধি তাদের দখলে রেখেছেন। বিবাদমান জমি সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে গণেশপুর ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে এবং স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বসেও কোন সমাধান পাননি তিনি। বরং তার ওই কবলাকৃত জমি দখলে নিতে গিয়ে বিভিন্নভাবে মারপিট এবং হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এমতাবস্থায় কবলাকৃত জমিগুলো বুঝে নিতে সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন তিনি।
এবিষয়ে প্রতিপক্ষের বিনয় ঋষি ও পরি ঋষি জানান যে, মিলনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছে। তাদের দাবি যে, খতিয়ানের মূল মালিক কুকি দাসী’র ছেলে শ্রী হরির কাছ থেকে কবলামূলে প্রাপ্ত জমিগুলো বর্তমানে তাদের দখলেই রয়েছে। সেখান থেকে জমি নিতে চাইলে অন্যত্র তাদের কবলাকৃত জমি পূরণ দিয়ে নিতে হবে।
খতিয়ানের মূলধনী কুকি দাসীর দুই নাতী যোগেন এবং মিঠন বলেন, তাদের দাদীর মৃত্যুর পর তার বাবারা ২ ভাই এবং ১ বোন ছিলেন। দাদীর মৃত্যুর পর তাদের বাবাও একজন অংশিদার। পরবর্তীতে মৃত দাদীর অংশ মোতাবেক প্রাপ্ত ৩ শতক পৈত্রিক অংশ মিলনের কাছে বিক্রয় করেছেন তারা। সেখানে তো কারো আপত্তি থাকার কথা না। তাদের দাবি যে, হিন্দু দায়ভাগে মায়ের মৃত্যুর পর ছেলে থাকাবস্থায় মেয়েরা অংশিদার হয় না। মূলধনী কুকি দাসীর এক ছেলে শ্রী হরি জমি পেলে তার বাবা সতীশের অংশ মোতাবেক তারা কেনো পাবে না বলেও প্রশ্ন করেন তারা।
এব্যাপারে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোজাম্মেল হক কাজী বলেন,‘ বিষয়টি অবগত নয়। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে, বিবাদমান জমির জন্য আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’