বাংলাদেশকে জনশক্তি রপ্তানিতে বিশ্বমানের অবস্থানে নিয়ে যেতে চায় সরকার—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। তিনি বলেছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে এই খাতে একটি “রোল মডেল” হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে কীভাবে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি প্রশিক্ষিত ও যোগ্য কর্মী সৌদি আরবে পাঠানো যায় এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌথ সহযোগিতা বাড়ানো যায়—সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে আরবি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রেও সৌদি আরবের কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
মাহাদী আমিনের মতে, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ, আধা-দক্ষ ও অদক্ষ—সব ধরনের জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রেই সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীরা আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারেন।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদেশে কর্মী পাঠানো নয়, বরং তাদের অধিকার সুরক্ষা এবং মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
সবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে জনশক্তি রপ্তানিতে বিশ্বে একটি উদাহরণ স্থাপন করতে সক্ষম হবে।