বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জনমুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে কর্মকর্তাদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান Tarique Rahman বলেছেন, প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হলে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যেন সরকারি দপ্তরে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান—এটি নিশ্চিত করতে হবে জনপ্রশাসনকেই।

বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আয়োজিত ‘ত্রৈমৈত্রী’ সম্মেলনে Bangladesh Administrative Service Association-এর বার্ষিক সম্মিলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি প্রশাসন চায় যেখানে সেবাগ্রহীতারা সম্মান ও মানবিক আচরণ পান। “আইন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে মানবিকতা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ,”—বলেন তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, একজন বৃদ্ধ বা অসুস্থ মানুষ যখন সরকারি অফিসে সেবা নিতে যান, তখন তাদের সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি সহানুভূতিশীল আচরণ করা জরুরি। কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও মানবিক ব্যবহারই রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমেই এই বিশ্বাস অর্জন সম্ভব। “প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়, এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম”—যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব মূলত জনপ্রশাসনের ওপরই বর্তায়। মাঠপর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ‘সরকারের অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন সাধারণ মানুষ সরকারি অফিসে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, তার ওপরই পুরো সরকার ব্যবস্থার প্রতি তার ধারণা নির্ভর করে। “যদি সেবাগ্রহীতা আন্তরিকতা পান, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা বাড়ে; আর হয়রানির শিকার হলে সেই আস্থা নষ্ট হয়”—বলেন তিনি।

তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব না হলেও অন্তত এমন ধারণা দিতে হবে যে, সরকার ও প্রশাসন নাগরিকের পাশে রয়েছে এবং সমস্যার সমাধানে আন্তরিক।

তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা গেলে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ দেশের বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে। পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শেষে তিনি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ ও নির্ভয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সকল আইনগত ও মানবিক উদ্যোগে সহায়তা দেওয়া হবে।