বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

“জনগণের কল্যাণে বাজেট, অস্থিরতা নয় উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য: কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী”

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

কক্সবাজার, ১৩ জুন ২০২৬: বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষের কল্যাণে প্রণীত বাজেটকে ঘিরে অযৌক্তিক সমালোচনা করা হচ্ছে। তার মতে, বিরোধী শক্তির মূল উদ্দেশ্য জনগণের স্বার্থ রক্ষা নয়; বরং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে দেশের উন্নয়নযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করা।

শনিবার কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর হ্রাস করা হয়েছে। অথচ বিরোধী দল এমন একটি বিষয়কে সামনে এনে সমালোচনা করছে, যা মূলত স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের ওপর কর আরোপের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি উল্লেখ করেন, মদ ও সিগারেটের মতো ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে জনস্বার্থে এবং জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য।

তিনি বলেন, বাজেট ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। বরং সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জনগণ এখন বুঝতে পারছে কারা উন্নয়নের পক্ষে এবং কারা শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়।

‘করবো কাজ, গড়ব দেশ’—এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের কৃষক, শ্রমজীবী, নারী, শিক্ষার্থী এবং নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

বেলা ১১টার দিকে নিজ হাতে মাটি কেটে পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল পুনঃখনন প্রকল্প শুধু একটি অবকাঠামোগত উদ্যোগ নয়; এটি কৃষি উৎপাদন, সেচব্যবস্থা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় সাড়ে আট হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত কৃষি উৎপাদন সম্ভব হবে।

কৃষি খাতের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী জানান, নতুন বাজেটে কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড প্রদান করা হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের আড়াই হাজার টাকা করে নগদ প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমাতে এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নারী শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন ছাড়া জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যেই স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়াতে উপবৃত্তি কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করা হবে।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে হার্টের রিং, কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত উপকরণ এবং কিছু জরুরি ওষুধের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যাতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়; দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। তাই সরকারের সব পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতিকে সামনে রেখেই পরিচালিত হচ্ছে।

দিনব্যাপী সফরে তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা ও সুধী সমাবেশসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সফর শেষে রাতেই ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী।