বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

“জঙ্গি স্বীকার না করলে পাগল বানিয়ে ছাড়বে”— ট্রাইব্যুনালে গুম ও নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে তুলে নেওয়ার পর গুম ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন এক মাদরাসা শিক্ষক। সোমবার (৪ মে) ট্রাইব্যুনাল-১-এ চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মো. শফিকুল ইসলাম।

জবানবন্দিতে তিনি জানান, ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটির কাছে বাসে ওঠার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পরিচয় জানতে চাইলে নিজেদের প্রশাসনের লোক দাবি করে তাকে ‘জিজ্ঞাসাবাদের’ কথা বলা হয়। পরে তার চোখ বেঁধে হাতকড়া পরানো হয়।

শফিকুল ইসলাম বলেন, অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে তাকে একটি কক্ষে রাখা হয়, যেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে বাধ্য করা হয়। চোখ বাঁধা অবস্থায় চলাফেরা, নির্দিষ্ট নির্দেশে খাবার গ্রহণ এবং সামান্য ভুলের জন্যও কঠোর শাস্তির হুমকি দেওয়া হতো।

কয়েকদিন পর তাকে আরেকটি স্থানে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে তাকে একটি চেয়ারে বসিয়ে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার স্বীকারোক্তি দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, অস্বীকার করলে তাকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং ভয়াবহ হুমকি দেওয়া হয়— স্বীকার না করলে হত্যা বা ‘পাগল বানিয়ে’ ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে রাখা, ঘুমাতে না দেওয়া, এবং নিয়মিত মারধরের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একই সঙ্গে পাশের সেলে থাকা অন্যান্য বন্দিদের আর্তনাদ তাকে আরও আতঙ্কিত করে তোলে।

জবানবন্দিতে তিনি সেলে থাকা অবস্থায় সীমিত সময়ের জন্য বাথরুম ব্যবহারের সুযোগ, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির কথাও তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ১৭ জন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে হেফাজতে আছেন এবং বাকিরা পলাতক। মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা আসামিদের পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।