বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা নির্মূলের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসী আস্তানা নির্মূলের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরসহ আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার মতো দুঃসাহস যারা দেখাবে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং সন্ত্রাসীদের সব ধরনের আস্তানা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে।

রোববার (৩১ মে) জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় পার্বত্য বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যবৃন্দ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী ফকির হোসেনসহ বিজিবি, র‍্যাব, সেনাবাহিনী এবং বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক পরিস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আয়োজিত এই বৈঠক চট্টগ্রামের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের সভা। তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং অপরাধমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, “সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক না কেন, তা নির্মূল করা হবে। রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের আশ্রয়দাতা কিংবা সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”

জঙ্গল সলিমপুর, সলিমপুর ও আলীনগর এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের উচ্ছেদ নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, সে বিষয়ে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, কোনো সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদ করা হবে না। বরং যারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন, তাদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে ওই অঞ্চলের পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের জন্য ভূমি নির্ধারণের কাজও চলমান রয়েছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর প্রসঙ্গে তিনি জানান, লিংক রোড সংলগ্ন প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ জায়গাটির দায়িত্ব গ্রহণের পর সেখানে উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযান সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে পরিচালিত অভিযান ছিল অত্যন্ত সফল ও সমন্বিত। শুধু পুলিশ নয়, র‍্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ প্রায় চার হাজার সদস্যের যৌথবাহিনী হেলিকপ্টার সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জঙ্গল সলিমপুর ছাড়াও চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও বোয়ালখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমনে বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে সরকার একা সফল হতে পারে না। এজন্য জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে সকালে তিনি জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও নিরাপত্তা বিষয়ক পরিকল্পনা পর্যালোচনা করেন।

সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরসহ পাহাড়ি এলাকাগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।