বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ছারছীনা দরবারে লাখো মুসল্লির অশ্রুভেজা “আমীন” ধ্বনিতে শেষ হলো ঐতিহাসিক ঈছালে ছাওয়াব মাহফিল

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫

উপমহাদেশের প্রাচীন ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র ছারছীনা দরবার শরীফে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শতবর্ষের ঐতিহ্যমণ্ডিত ১৩৫তম তিনদিনব্যাপী ঈছালে ছাওয়াব মাহফিল। সোমবার (০১ ডিসেম্বর ২০২৫) বাদ যোহর অনুষ্ঠিত এ মহামোনাজাতে লাখো মুসল্লির সমবেত কান্না ও “আমীন… আমীন” ধ্বনিতে দরবারের বিশাল মাঠ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।

দরবার শরীফের আমীরে হিযবুল্লাহ আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.) মোনাজাত পরিচালনা করেন। দেশ–জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি, নাজাত, কল্যাণ এবং আল্লাহর বিশেষ রহমত কামনা করে তিনি দোয়া করেন। তাঁর দরদভরা মোনাজাতে উপস্থিত লাখো ভক্ত-মুরিদের চোখে অশ্রু, হৃদয়ে অনাবিল প্রশান্তি নেমে আসে।

মোনাজাতের আগে পীর সাহেব কেবলা হৃদয়স্পর্শী নসীহত, রূহানী দিকনির্দেশনা ও জিকিরের তালিম দেন। তাঁর বয়ানে মাহফিলস্থলে সৃষ্টি হয় গভীর ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক আবেশ।

তিনদিনব্যাপী এই মাহফিলে দেশবরেণ্য আলেম-ওলামা, মুফতি, মাশায়েখ এবং ছারছীনা আলিয়া ও দ্বীনিয়া মাদ্রাসার আসাতিজায়ে কেরাম কুরআন-হাদিস, তাসাউফ, আকীদা, নৈতিকতা ও সমাজ সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রতিদিনই অনুষ্ঠিত হয় নামাজ, জিকির-আসকার, ইলমী পানি সমাবেশ ও রূহানী অনুশীলন।

মাহফিল উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য কাফেলা দলে দলে ছারছীনা দরবারে পৌঁছায়। রিজার্ভ বাস, লঞ্চ, ট্রলার, ট্রাক, মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে পায়ে হেঁটেও বহু ভক্ত মাহফিলে অংশ নেন। মুসল্লিদের নিরাপত্তা, খাবার, পানি ও বিশ্রামের জন্য স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।

রাতের আকাশে চাঁদের আলো, মিনারের নূরানি দৃশ্য এবং হাজারো মানুষের সম্মিলিত জিকিরে ছারছীনা দরবার পরিণত হয় এক অতুলনীয় রূহানী পরিবেশে। প্রেম, ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার এই মহাসমাবেশ দেশ–বিদেশের মানুষের হৃদয়ে নতুন বার্তা পৌঁছে দেয়।

আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে মাহফিলের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও—ভক্তদের হৃদয়ে এর রূহানী প্রভাব ও ভালোবাসার স্রোতধারা দীর্ঘদিন অম্লান হয়ে থাকবে।