বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

চোর সন্দেহে ছেলেকে না পেয়ে বাবা-মাকে মারধর, অপমানে মায়ের আত্মহত্যা

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬

জামালপুর সদর উপজেলায় গরু চোর সন্দেহে এক যুবককে না পেয়ে তার বাবা-মাকে তুলে এনে সালিসে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এতে অপমানে মা জোসনা বানু আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের খলিলহাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জোসনা বানু ওই এলাকার সুরুজ্জামানের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে খলিলহাটা এলাকায় ইউপি সদস্য নায়েব আলীর বাড়িতে গরু চুরির চেষ্টা হয়। এ ঘটনার জেরে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ইউপি সদস্য নায়েব আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন সুরুজ্জামানের বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে সুজন মিয়াকে চোর সন্দেহে ধরতে চান। তবে তাকে না পেয়ে তার বাবা সুরুজ্জামান ও মা জোসনা বানুকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিস বসে। সেখানে আরও দুইজন তোতা মিয়া ও সোহেল রানাকে চোর সন্দেহে ডেকে এনে মারধর করা হয়। এ সময় তাদের পরিবারের সদস্যদেরও মারধর করা হয়।সালিসের মধ্যেই বাড়ি ফিরে অপমান সহ্য করতে না পেরে জোসনা বানু আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।

স্থানীয় বাসিন্দা মুখলেস জানান, চুরির অভিযোগে ছেলেকে না পেয়ে মা-বাবাকে ধরে এনে মারধর করা হয়। অপমান সইতে না পেরে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোহেল রানার বাবা সুরুজ্জামান বলেন, নায়েব আলীদের সঙ্গে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে, যা হাইকোর্টে বিচারাধীন। সেই বিরোধের জেরে আমাদের চোর সাজিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারধর করে ইউনিয়ন পরিষদে নেওয়া হয়। পরে জানতে পারি, আমার স্ত্রী মারা গেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য নায়েব আলী বলেন, প্রতিবেশীর অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। অভিযুক্তদের ডাকা হলে সোহেল রানা উপস্থিত হয়নি। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা খারাপ আচরণ করলে কিছু লোক উত্তেজিত হয়ে সামান্য মারধর করে। আমি তাদের থামানোর চেষ্টা করেছি। পরে শুনেছি, তার মা মারা গেছেন।

এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুজ্জামান বলেন, ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন, তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।