বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

চোরতন্ত্র ব্যাকফুটে রয়েছে, পতন হয়নি : ড. ইফতেখারুজ্জামান

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চোরতন্ত্র ব্যাকফুটে রয়ে গেছে এবং এটির সম্পূর্ণ পতন করা সম্ভব হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্র সংস্কার ও দুর্নীতি প্রতিহত করা, কিন্তু তারা দুই ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যে সংস্কারগুলোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে অনেক ক্ষেত্রে ধীর গতি দেখা গেছে। জুলাই আন্দোলনের পর বাংলাদেশের সিপিআই স্কোর মাত্র ১ পয়েন্ট বেড়েছে, যা দুর্নীতি কমার কারণে নয়, বরং আন্দোলনের প্রভাব। তাছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যে দলবাজি-দখলদারি হয়েছে, তাতে দেখা গেছে দুর্নীতির হাতবদল হয়েছে, দমন হয়নি।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের পছন্দ অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অন্য কোনো মতামতকে গুরুত্ব দেয়নি। রাজনৈতিক ও আমলাতন্ত্রের অপশক্তির কারণে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ সময়ে স্বচ্ছতার চর্চায়ও তারা অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর আগামী নির্বাচনে প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হলে দুর্নীতি প্রতিহত করা সম্ভব। রাষ্ট্রের স্বার্থকে নিজের স্বার্থের আগে গুরুত্ব দিতে হবে। ক্ষমতায় আসুক বা না আসুক, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে দুর্নীতি দমনে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের যে দেশগুলোতে সিপিআই স্কোর ১০০-এর কাছাকাছি, সেখানে দুর্নীতির শাস্তি নিশ্চিত। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক আশ্রয়ে দুর্নীতিগ্রস্তরা দায়মুক্তি পাবে না এমন ব্যবস্থা করতে হবে। দুদকসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বাড়াতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যত বেশি, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ তত দ্রুত সম্ভব।

টিআইবি মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ২০২৫ সালের সিপিআই সূচক প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা ঘোষণা করে। অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা পর্ষদের পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের, বহির্বিভাগ ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এবং গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

২০২৫ সালের সিপিআই সূচক অনুযায়ী, বিশ্বের ১৮২টি দেশের মধ্যে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। ২০২৪ সালে এই অবস্থান ছিল ১৪তম। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে দুর্নীতিতে একধাপ অবনতি হয়েছে। দেশের সিপিআই স্কোর ২৩ থেকে ২৪ পয়েন্টে উন্নত হয়েছে, যা কেবল জুলাই আন্দোলনের ফল।

দশটি সর্বোচ্চ দুর্নীতিমুক্ত দেশের মধ্যে ডেনমার্ক ৮৯ পয়েন্টসহ প্রথম, ফিনল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর ৮৪ পয়েন্টে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে। সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় সুদান ও সোমালিয়া যৌথভাবে ৯ পয়েন্টে শীর্ষে, এরপর ভেনেজুয়েলা এবং যৌথভাবে ইয়েমেন, লিবিয়া ও ইরিত্রিয়া।