বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

চুনতিতে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ শুরু, কমবে দুর্ঘটনার শঙ্কা

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার চুনতি এলাকায় দুর্ঘটনা কমাতে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ একটি অংশ চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় প্রায় ৯০০ মিটার সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগ

স্থানীয় বাসিন্দা, যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের আশা, দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত এ অংশটি প্রশস্ত হলে প্রাণহানি ও যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে তারা পুরো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দ্রুত চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন।

দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি চুনতি এলাকায় পৃথক দুটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হন। এরপর থেকেই সড়কটি সম্প্রসারণের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

সওজ সূত্র জানায়, বর্তমানে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া অংশে তিনটি পৃথক প্যাকেজে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ চলছে। প্রথম প্যাকেজে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে লোহাগাড়ার রাজঘাটা পর্যন্ত ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়কে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন

দ্বিতীয় প্যাকেজে রাজঘাটা থেকে চুনতি মিঠার দোকান পর্যন্ত সাত কিলোমিটার সড়কে ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করছে এমএ কনস্ট্রাকশন। এছাড়া তৃতীয় প্যাকেজে চুনতি মিঠার দোকান থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার অংশে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ জানান, বর্তমানে মহাসড়কের প্রস্থ ২১ ফুট থাকলেও সেটি বাড়িয়ে ৩৪ ফুট করা হচ্ছে। সড়কের উভয় পাশে ছয় থেকে সাত ফুট পর্যন্ত সম্প্রসারণের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আরও ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত বাড়ানো হবে।

তিনি আরও বলেন, চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার অংশে মাঝখানে ডিভাইডার রেখে চার লেন নির্মাণ করা হচ্ছে এবং কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে শেখ রবিউল আলম জানান, সরকার পুরো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। হাইওয়ে ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় প্রায় ২৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং প্রায় ২ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয় লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, একই দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়–এর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বৃহত্তর দক্ষিণ চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের সচেতন শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।