বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

চুক্তি না হলে যুদ্ধবিরতি বাড়বে না, ইরানে আবারও হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। Donald Trump জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর ছাড়া বাড়ানোর সম্ভাবনা “খুবই কম”। তার এই মন্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মার্কিন সময় অনুযায়ী আগামী ২২ এপ্রিল বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে যদি কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে বাংলাদেশের সময় ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ইরানে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এতে করে যুদ্ধবিরতির শেষ মুহূর্তে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল (মার্কিন সময় ৭ এপ্রিল সন্ধ্যা) থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। এই যুদ্ধবিরতির তিন দিন পর শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন। তবে প্রায় ২১ ঘণ্টা দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম Bloomberg-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হলে তা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কিনা। জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “এমন সম্ভাবনা খুবই কম।”

একই সাক্ষাৎকারে, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি না হয় তাহলে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হবে কিনা— এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “যদি যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগে কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে অবশ্যই অভিযান শুরু হবে— বুধবার সন্ধ্যা থেকেই।”

তবে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি “ভালো” চুক্তি করতে চায় এবং এজন্য প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেও তাদের আপত্তি নেই। তার ভাষায়, “আমরা কোনো খারাপ চুক্তি করতে চাই না। আমরা ভালো চুক্তি চাই— এবং এজন্য যত সময় লাগে, তত সময় নিতেই প্রস্তুত।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিকে সামরিক চাপের হুমকি, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার স্থবিরতা— সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।