রবিবার , ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

চার দিন পর দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

টানা চার দিন বন্ধ থাকার পর খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-লংগদু সড়কে আবারও সব ধরনের যান চলাচল শুরু হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে সড়কে ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

একই সঙ্গে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় জেলার বন্যা পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া দীঘিনালার ছোট মেরুং বাজার থেকে পানি নেমে গেলেও বাজারসংলগ্ন নিচু এলাকার কয়েকশ বাড়িঘরে এখনো পানি জমে আছে। ফলে অনেক পরিবার এখনও নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেনি।

ছোট মেরুং বাজারের ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমেদ জানান, ধীরে ধীরে বাজারের পানি কমে গেছে। এখন দোকানপাট পরিষ্কার করার কাজ চলছে। আকস্মিক বন্যায় অনেক ব্যবসায়ী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং তাদের পণ্য নষ্ট হয়েছে।

মেরুং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, বন্যার পানি কমতে শুরু করায় লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে। তবে অনেক ঘরবাড়িতে এখনও পানি থাকায় কিছু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

পানি কমলেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অভ্যন্তরীণ ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, অন্তত এক হাজার হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ ধানের চারা ও বিভিন্ন সবজিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কয়েকশ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, বিজিবি, জেলা বিএনপি এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির খাগড়াছড়ি ইউনিট খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে।

এর আগে শনিবার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে এবং কোনো ঘাটতি রাখা হবে না।

তবে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দুর্গত মানুষের আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।