বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

চার খাতে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার, বাড়তে পারে ভিসা সেন্টার

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

Qatar বাংলাদেশ থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি খাতে দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। খাতগুলো হলো—ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডিং, এসি টেকনিশিয়ান ও প্লাম্বিং। একই সঙ্গে বাংলাদেশে কাতারের ভিসা সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।

সোমবার (১৮ মে) ঢাকায় সফররত কাতারের শ্রমমন্ত্রী Ali bin Saeed bin Samikh Al Marri–এর সঙ্গে বৈঠক করেন Ariful Haque Choudhury। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কাতার এখন অদক্ষ কর্মীর পরিবর্তে দক্ষ জনশক্তির প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কারণে বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশ ইতিবাচক আলোচনা করেছে। তিনি জানান, সরকার দক্ষ কর্মী তৈরিতে জোর দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানো হবে।

বৈঠকে উপস্থিত প্রতিমন্ত্রী Md. Nurul Haque বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হচ্ছে। তিনি জানান, কাতারে ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগের সুযোগ আগের তুলনায় কমে গেলেও এখন আবার সেই সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে দেশটি।

তিনি আরও বলেন, কাতার নতুন করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য চারটি কারিগরি খাতে সুযোগ তৈরি করতে চায়। বিশেষ করে নির্মাণ, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবাখাতে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে। ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে কাতারের মাত্র একটি ভিসা সেন্টার থাকায় আবেদনকারীদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, একটি সেন্টারের কারণে অনেককে বারবার ঢাকায় আসতে হয়। তাই আরও কয়েকটি ভিসা সেন্টার অনুমোদনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিষয়টি দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে কাতার।

ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভিসা প্রসেসিংয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যেন আবেদনকারীদের অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তিতে না ফেলে, সে বিষয়েও নজর রাখা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লেও দক্ষ কর্মীর চাহিদা এখনও অনেক বেশি। তাই কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে পারলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।