বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

চামড়া শিল্পকে রপ্তানিমুখী করার পরিকল্পনা: দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন রোডম্যাপের ঘোষণা বাণিজ্যমন্ত্রীর

প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

দেশের চামড়া শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

শুক্রবার (২৯ মে) রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় কোরবানির কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে চামড়া খাতের উন্নয়ন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি সমন্বিত পরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্যোগ, ব্যবসায়ী-আড়তদারদের অংশগ্রহণ এবং মসজিদ-মাদরাসাভিত্তিক সংরক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে এবারের কোরবানির চামড়া সর্বোচ্চ ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, তিনি সম্প্রতি আমিনবাজার, পোস্তা ও হেমায়েতপুর আড়ত পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ ও লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোরবানির পর ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে সঠিকভাবে পরিষ্কার করে লবণ মাখাতে পারলে চামড়া কয়েক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব। তবে দেরি হলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কাঁচা চামড়া থেকে ওয়েট ব্লু, ক্রাস্ট লেদার হয়ে ফিনিশড লেদার তৈরি হয়, যা দিয়ে জুতা, বেল্ট, স্যান্ডেলসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করা হয়। তাই সঠিক প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ না করলে চামড়ার অর্থনৈতিক মূল্য হারিয়ে যায়।

চামড়া পাচার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দেশের একটি চামড়াও যেন পাচার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

সাভার চামড়া শিল্পনগরী ও কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় অনেক ট্যানারি পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে পারছে না। এসব সমস্যা সমাধান করে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সিইটিপির দৈনিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে, কারণ বর্তমানে প্রকৃত ব্যবহার ক্ষমতা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম।

মন্ত্রী বলেন, চামড়া শিল্পে বর্তমানে প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে, যা সঠিক ব্যবস্থাপনা ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব।

চামড়া শিল্পকে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকার পুরো খাতকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও রপ্তানিমুখী কাঠামোর মধ্যে নিয়ে যেতে কাজ করছে।