বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

চাকরির প্রলোভনে কোটি টাকার প্রতারণা, র‍্যাবের অভিযানে দুইজন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে Rapid Action Battalion। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. তারেক সরকার (৪০) ও তার সহযোগী পলাশ কবির (৪২)।

সোমবার (২৫ মে) কেরানীগঞ্জে র‍্যাব-১০ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

র‍্যাব জানায়, দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর ধরে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্র চালিয়ে আসছিল মূলহোতা তারেক সরকার। তিনি ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে বিভিন্ন সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে যোগাযোগ স্থাপন করতেন। এরপর চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতেন।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারেক সরকার একসময় সেনাবাহিনীতে চাকরি করলেও ২০০৬ সালে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে চাকরিচ্যুত হন। পরে কারা অধিদপ্তরে চাকরি করে ২০২০ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। সেই সময় সরকারি দপ্তরের কাজকর্ম ও কর্মকর্তাদের প্রভাব সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি, যা পরে প্রতারণার কাজে ব্যবহার করেন।

র‍্যাবের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা বিভিন্ন ‘ভিআইপি’ সিম ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতেন। এরপর সেই প্রভাব ব্যবহার করে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকারও বেশি অর্থ আদায় করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারেক সরকার স্বীকার করেছেন যে, গত ছয় বছরে তিনি প্রায় ১ থেকে দেড় কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।

র‍্যাব জানায়, নরসিংদী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার পর তার বাসা থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ডিভাইস এবং ভুয়া সম্পাদিত ছবি উদ্ধার করা হয়। এসব ছবিতে তিনি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিজের ছবি এডিট করে ব্যবহার করতেন, যা দেখিয়ে তিনি ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জন করতেন।

পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে তার সহযোগী পলাশ কবিরকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।