বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

চাঁদ দেখা নিয়ে ভিন্ন নিয়মে বিভ্রান্তি: যেসব ৪ পদ্ধতিতে নির্ধারিত হয় রমজান ও ঈদের তারিখ

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

রমজান, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার তারিখ নিয়ে প্রতি বছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মতভেদ দেখা যায়। কোথাও একদিন আগে, আবার কোথাও একদিন পরে রোজা বা ঈদ পালিত হয়। এই ভিন্নতার মূল কারণ হলো— হিজরি মাস শুরুর ক্ষেত্রে চাঁদ দেখার পদ্ধতিগত পার্থক্য। মুসলিম বিশ্বে বর্তমানে রমজান ও ঈদের তারিখ নির্ধারণে মূলত চারটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

হিজরি বা ইসলামী বর্ষপঞ্জি সম্পূর্ণভাবে চন্দ্রভিত্তিক। প্রতিটি মাস শুরু হয় নতুন চাঁদ বা হিলাল দেখার মাধ্যমে। আরবি মাস ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে। মাসের ২৯তম দিনে সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে চাঁদ দেখা গেলে পরদিন নতুন মাস শুরু হয়। আর চাঁদ দেখা না গেলে মাস ৩০ দিন পূর্ণ করে নতুন মাস শুরু হয়।

কিন্তু চাঁদ দেখার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম অনুসরণ করা হয়, যার ফলে রমজান ও ঈদের তারিখেও পার্থক্য দেখা দেয়।

এটি সবচেয়ে প্রচলিত ও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি।
এই নিয়মে মাগরিবের পর পশ্চিম আকাশে খালি চোখে বা দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হয়। চাঁদ দেখা গেলে তা স্থানীয় ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ বা সরকারি চাঁদ দেখা কমিটিকে জানানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে সরকারিভাবে মাস শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ, সৌদি আরবসহ বহু মুসলিম দেশ এখনো এই পদ্ধতিকে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মনে করে।

এই পদ্ধতিতে আধুনিক বিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিদ্যার তথ্য ব্যবহার করে চাঁদের অবস্থান নির্ণয় করা হয়। চাঁদের বয়স, সূর্যের সঙ্গে সংযোগ সময়, দিগন্তের ওপর চাঁদের উচ্চতা ও দৃশ্যমানতার সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে আগেই মাস শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

সিঙ্গাপুর এর একটি বাস্তব উদাহরণ। দেশটিতে খোলা দিগন্তের অভাব ও প্রায়ই মেঘলা আবহাওয়ার কারণে সরাসরি চাঁদ দেখা কঠিন। ফলে ১৯৭৪ সাল থেকে তারা সম্পূর্ণ হিসাবভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছে।কিছু দেশ ও অঞ্চলে নিজস্ব চাঁদ দেখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তারা অন্য দেশের ঘোষণার ওপর নির্ভর করে। সাধারণত সৌদি আরব বা নিকটবর্তী কোনো মুসলিম দেশের চাঁদ দেখার সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হয়।

ইউরোপ, আমেরিকা কিংবা অ্যান্টার্কটিকার মতো অঞ্চলে অবস্থানরত মুসলমানরা এই পদ্ধতিতে রমজান ও ঈদের সময়সূচি নির্ধারণ করেন।

 জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব ও বাস্তব চাঁদ দেখা—দুটিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রথমে হিসাব করে দেখা হয় চাঁদ দেখা আদৌ সম্ভব কি না। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষকরা আকাশে চাঁদ দেখার চেষ্টা করেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশ এই সমন্বিত পদ্ধতি অনুসরণ করছে।

হজ ইসলামের একটি নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক ফরজ ইবাদত। আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করতে হয় জিলহজ মাসের ৯ তারিখে।
এ কারণে বিশ্বের যেখানেই থাকুন না কেন, হজের সব আনুষ্ঠানিকতা সৌদি আরবের চাঁদ দেখার সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই পালন করতে হয়

ভৌগোলিক অবস্থান, সময়ের পার্থক্য, আবহাওয়া ও মেঘাচ্ছন্নতার কারণে একই দিনে এক দেশে চাঁদ দেখা গেলেও অন্য দেশে দেখা নাও যেতে পারে। এ কারণেই রমজান বা ঈদের তারিখে পার্থক্য দেখা যায়।