বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

চমেক হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন ও দালালমুক্ত করার ঘোষণা, শুরু বিশেষ অভিযান

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন, শৃঙ্খলাবদ্ধ, নিরাপদ এবং দালালমুক্ত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন

বুধবার (১০ জুন) হাসপাতাল চত্বরে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম উদ্বোধন করে তিনি এ উদ্যোগের কথা জানান। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও দালালচক্র দমনে একাধিক নির্দেশনা দেন।

মেয়র বলেন, চমেক হাসপাতালকে একটি আধুনিক, স্বাস্থ্যকর ও মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা জরুরি। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দূর করে রোগীদের জন্য নিরাপদ ও সেবাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতাল এলাকায় প্রতিটি দোকানে ডাস্টবিন রাখা বাধ্যতামূলক করা হবে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে নালা-নর্দমায় মশার লার্ভা নিধনে নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, রোগীদের কাছ থেকে অতীতে অস্বাভাবিক ভাড়া আদায়ের বিষয়টি বন্ধে নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা কার্যকর করা হবে। এতে ভাড়া নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছতা আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

হাসপাতাল এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ওয়ালি বেগ খাঁ মসজিদ থেকে মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত পুরো এলাকা পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে ঘোষণা দেন। সেখানে কোনো ভাসমান দোকান, ট্রলি বা অনিয়মিত ব্যবসা থাকবে না।

এছাড়া হাসপাতাল চত্বরকে ধূমপান ও মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে টেকসই করতে সিটি করপোরেশন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ২০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রাখবে।

দালালচক্র ও রোগী হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে মেয়র বলেন, হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে এবং রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে।

অনুষ্ঠানে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন, চসিক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।