বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

চট্টগ্রাম বন্দর জনগণের সম্পদ, গোপন চুক্তির সুযোগ নেই: ফরহাদ মজহার

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে কোনো ধরনের গোপনীয় চুক্তি হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কেবল একটি অর্থনৈতিক স্থাপনা নয়, এটি জনগণের সম্পদ এবং একই সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। ফলে বন্দরের বিষয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত জনগণকে অবহিত করেই গ্রহণ করতে হবে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে বন্দর সুরক্ষা কমিটি আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর সুরক্ষা বনাম বন্দর অচলের রাজনীতি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফরহাদ মজহার বলেন, বন্দর ইস্যুকে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে চলবে না। এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সামরিক প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত। জনগণের সম্পদ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দায় কেবল আমলাদের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। এ বিষয়ে জনগণকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে এবং তাদের মতামত নিতে হবে।

তিনি বলেন, চুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের কারণে বন্দর অচল হয়ে পড়েছে—এ বিষয়টিকে ব্যবহার করে শ্রমিকদের দায়ী করে চুক্তির পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানো হবে। এটি একটি দ্বিমুখী তলোয়ারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন শ্রমিকদের দক্ষতা ও অদক্ষতার প্রশ্ন সামনে আনা হয়েছে। অথচ আসল প্রশ্ন হলো—আমরা কেন আমাদের শ্রমিকদের দক্ষ করে তুলতে পারছি না এবং কেন বন্দরকে পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে।

চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে ফরহাদ মজহার বলেন, দেশের সামরিক সংকট বা জরুরি অবস্থা জারি হলে তখন বন্দরের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে—সে বিষয়ে জনগণ কিছুই জানে না। শুরু থেকেই তিনি বলে আসছেন, বন্দরের উন্নয়ন ভাবনায় কেবল অর্থনৈতিক লাভ নয়, রাষ্ট্রীয় ও সামরিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের হৃদপিণ্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এই বন্দরের পাশেই বঙ্গোপসাগর, যেখানে বর্তমানে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চলছে। এই বাস্তবতায় বন্দরকে সুরক্ষিত রাখতে না পারলে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে।

সভায় ফরহাদ মজহার বলেন, ৫ আগস্টের পর ক্ষমতা জনগণের হাতে এসেছিল। কিন্তু সেই ক্ষমতাকে আবার পুরনো ব্যবস্থার হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে। এর প্রকৃত তাৎপর্য না বোঝার কারণে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এর ফলেই সরকার, সংসদ বা রাষ্ট্র জনগণের মতামত ছাড়াই রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিদেশিদের কাছে ইজারা দিতে পারছে।

বন্দর সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ফরহাদ মজহারের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মেজর (অব.) আহমেদ ফেরদৌসের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন সমন্বয়ক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রোমেল, বন্দর শ্রমিক নেতা হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকন।