রবিবার , ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

চট্টগ্রাম বন্দরে তিন জাহাজে লুটের খবর ভিত্তিহীন, দাবি কোস্ট গার্ডের

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে তিনটি জাহাজে লুটের খবর সঠিক নয় বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বাহিনীটির দাবি, আলোচিত তিনটি জাহাজের মধ্যে দুটিতে কোনো মালামাল চুরি হয়নি। বরং কোস্ট গার্ডকে খবর দেওয়ার পর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ায় চুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) ও লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে তিনটি জাহাজে লুটের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আলোচিত তিনটি জাহাজের মধ্যে দুটির ক্ষেত্রে কোস্ট গার্ডকে অবহিত করার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে কোনো মালামাল চুরি হয়নি। এরপরও ওই জাহাজগুলো থেকে মূল্যবান সরঞ্জাম লুটের তথ্য সংবাদে প্রকাশ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে কোস্ট গার্ড।

বাহিনীটি জানায়, অপর জাহাজটির ক্ষেত্রে চুরির সময় কোস্ট গার্ডকে অবহিত করা হয়নি। ঘটনার প্রায় সাত ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্ট বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে বোর্ডিং টিম পাঠিয়ে মালামাল উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

কোস্ট গার্ড আরও জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিধি অনুযায়ী জাহাজটিতে নিবন্ধিত ওয়াচম্যান থাকার কথা থাকলেও সেখানে কোনো অনুমোদিত ওয়াচম্যান নিয়োজিত ছিলেন না। এটিকে জাহাজটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করেছে বাহিনীটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাদক, অস্ত্র, চোরাচালান, মানব পাচার, ছিঁচকে চুরি ও জলদস্যুতা প্রতিরোধে নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করা হচ্ছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমের ফলে বহির্নোঙরে ছিঁচকে চুরি ও জলদস্যুতার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলেও দাবি করেছে কোস্ট গার্ড।

কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে পূর্ব জোনের আওতাধীন বহির্নোঙর এলাকায় ৩ হাজার ৪৮৫টি টহল এবং ১১২টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন অবৈধ মালামাল জব্দের পাশাপাশি ৩৪ জন চোরাচালানকারী ও ছিঁচকে চোরকে আটক করা হয়েছে।

বাহিনীটি জানায়, চোরাকারবারিরা মৎস্য আহরণের আড়ালে এবং বিভিন্ন অজুহাতে বহির্নোঙরে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালায়।

সর্বশেষ শুক্রবার রাতে বিসিজি আউটপোস্ট পতেঙ্গা পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১৬টি নৌযানসহ ৪১ জনকে আটক করা হয়।

কোস্ট গার্ড আরও জানায়, বাহিনীর জনবল এবং প্রয়োজনীয় বোট ও সরঞ্জামের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে সরকারের উদ্যোগে বাহিনীতে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার সংযোজন এবং জনবল বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের আভিযানিক সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছে বাহিনীটি।