চট্টগ্রাম নগরীতে মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জুয়া ও কিশোর গ্যাং কার্যক্রম দমনে বিশেষ ‘এস ড্রাইভ’ পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। রোববার (১ মার্চ) দিবাগত রাতে নগরের ১৬টি থানা এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে মোট ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে মাদক মামলার ৫ জন, ছিনতাইকারী ৪১ জন, চাঁদাবাজ ৫ জন, জুয়াড়ি ২ জন এবং কিশোর গ্যাংয়ের ১২ সদস্য রয়েছেন। অভিযানকালে একটি দেশীয় এলজি, তিনটি ছোরা, শর্টগানের ১২টি কার্তুজ, পিস্তলের ১০ রাউন্ড গুলি, দুটি ছুরি, তিনটি দা ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
নগরের বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ৪৬৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে বাকলিয়া থেকে ১০০ পিস, বায়েজিদ থেকে ১৪ পিস, বন্দর এলাকায় ৪৭ পিস (পরিত্যক্ত অবস্থায়), ইপিজেড থেকে ২০০ পিস এবং পতেঙ্গা থেকে ১০৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, একযোগে অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্য ছিল—কোনো একটি স্থানে হানা দিলে অন্য স্থানে থাকা অপরাধীরা যাতে পালাতে না পারে। ওসি থেকে অতিরিক্ত কমিশনার পর্যন্ত সব পর্যায়ের কর্মকর্তা অভিযানে অংশ নেন।
সম্প্রতি একটি শিল্পগোষ্ঠীর চেয়ারম্যানের বাসভবন লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।
অভিযানের আগে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানানোয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তবে এ বিষয়ে অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, আগাম ঘোষণা ছিল কৌশলের অংশ। তার ভাষ্য, অপরাধীরা আগে থেকেই অভিযানের খবর পেলে তারা স্থান পরিবর্তন বা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করবে—এতে পুলিশের পক্ষে তাদের গতিবিধি ট্র্যাক করা ও নতুন তথ্য সংগ্রহ সহজ হয়। তিনি দাবি করেন, এ কৌশলে প্রাথমিকভাবে সফলতা মিলেছে এবং ভবিষ্যতে আরও ফল পাওয়া যাবে।