বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

চট্টগ্রামে পানিতে ডুবে বাড়ছে শিশু মৃত্যু, উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬


চট্টগ্রামে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে বাড়ির আশপাশের পুকুর, ডোবা ও খোলা জলাশয়ে খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা— যা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নগরের তুলনায় উপজেলাগুলোতেই এ ধরনের দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশুদের একা খেলতে যাওয়াই এসব মৃত্যুর প্রধান কারণ।

সর্বশেষ গত সোমবার (৪ মে) বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নে পুকুরে ডুবে মাইশা (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, গোসল করতে গিয়ে চাচার সঙ্গে পুকুরে গেলেও পরে সেখানেই ডুবে যায় শিশুটি।

এদিকে সীতাকুণ্ড উপজেলায় গত এক সপ্তাহে পানিতে ডুবে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বরৈয়াঢালা, কুমিরা ও বাঁশবাড়িয়া এলাকায় ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় একাধিক পরিবার শোকাহত। একইভাবে রাউজান, ফটিকছড়ি, সাতকানিয়া ও বোয়ালখালীতেও সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ১৮ হাজার ৬৬৪ জন পানিতে ডুবে মারা যায়। প্রতিদিন গড়ে ৫১ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে প্রায় ৪০ জনই শিশু। মোট মৃত্যুর প্রায় ৭৫ শতাংশই শিশুদের।

চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা এখন মহামারির মতো রূপ নিচ্ছে। এর প্রধান কারণ অভিভাবকদের অসচেতনতা। শিশুদের নিরাপত্তায় পরিবারকেই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে।

জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী বলেন, শিশুদের কখনো একা জলাশয়ের পাশে যেতে দেওয়া উচিত নয়। বাড়ির আশপাশের পুকুর বা ডোবা নিরাপদভাবে ঘিরে রাখা এবং শিশুদের সাঁতার শেখানো জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।