বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

চট্টগ্রামে ক্যান্সারজয়ীদের বৈশাখী মেলা: সাহস, সংগ্রাম আর জীবনের জয়ের গল্প

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ২ মে, ২০২৬

ক্যান্সার মানেই জীবনের শেষ নয়—এই ইতিবাচক বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দিতে Chattogram-এ অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী এক বৈশাখী মিলনমেলা। ক্যান্সারজয়ী ও চিকিৎসাধীন মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মেলায় উঠে এসেছে সাহস, সংগ্রাম এবং নতুনভাবে জীবনকে জয় করার অনুপ্রেরণামূলক গল্প।

শুক্রবার (১ মে) নগরের জিইসি কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হয় বৈশাখী মিলনমেলা ২০২৬। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল— “লড়াই শেষে জয়ের সাজ, অদম্য যোদ্ধাদের উদ্যোগ আজ।” এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Dr. Shahadat Hossain

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। অস্ত্রোপচার, ওষুধ ও রেডিয়েশন থেরাপির সমন্বিত চিকিৎসার ফলে অনেক রোগী সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। তাই ক্যান্সার মানেই জীবনের সমাপ্তি—এমন ধারণা সঠিক নয়।

তিনি আরও বলেন, ক্যান্সার মোকাবিলায় চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর মানসিক শক্তি, পরিবারের সহায়তা এবং সঠিক পুষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আয়োজন ক্যান্সারজয়ীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা করে।

মেলার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব ছিল, এর উদ্যোক্তা ও স্টল পরিচালনায় ছিলেন ক্যান্সারজয়ী ও চিকিৎসাধীন অংশগ্রহণকারীরা। তাদের হাতে তৈরি হস্তশিল্প, বৈশাখী পোশাক এবং ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলিতে সাজানো হয় পুরো আয়োজন।

অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল সারভাইভারদের স্টল, যেখানে প্রদর্শিত হয় হস্তশিল্প, পোশাক ও দেশীয় খাবার। পাশাপাশি স্মৃতিচারণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে ক্যান্সারজয়ীদের অনুপ্রেরণামূলক গল্প তুলে ধরা হয়। এছাড়া “বিজয়ের বেশে” শিরোনামে ফ্যাশন শো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেডিটেশন এবং আড্ডার আয়োজন ছিল।

খ্যাতনামা অনকোলজিস্ট Dr. Bhaskar Chakraborty-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ মেলায় তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ক্যান্সার মানেই জীবনের শেষ নয়; বরং এটি নতুন এক সাহসের শুরু। ইচ্ছাশক্তি ও সঠিক চিকিৎসা থাকলে ক্যান্সার জয় করা সম্ভব।”

ব্যতিক্রমী এই আয়োজন কেবল একটি মেলা নয়, বরং জীবনযুদ্ধ জয় করা মানুষদের উদযাপন এবং সমাজে নতুন আশার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এক উজ্জ্বল উদ্যোগ।