গ্রেপ্তার এড়াতে বাসা ও আশপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করলেও শেষ পর্যন্ত প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।
রোববার (১ মার্চ) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে বাসা ও আশপাশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছিল।
গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ
সিআইডির নিবিড় গোয়েন্দা তৎপরতা ও কৌশলী অভিযানের মাধ্যমে তাকে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন সাতপাখি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল ইসলাম প্রতারণার অপরাধ স্বীকার করেছেন। মামলার আরও তথ্য উদঘাটনের জন্য তাকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
চক্রের কৌশল
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার পশ্চিম বিঘা গ্রামে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে জাল নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তৈরি মালিকানা হস্তান্তর সংক্রান্ত কাগজ দেখিয়ে ১০ লাখ টাকায় একটি পুরোনো গাড়ি বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে আড়াই লাখ টাকা নগদ এবং সাড়ে সাত লাখ টাকা চেকের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন হয়। অনলাইনে যাচাই করলে প্রকৃত মালিকানা অন্যের নামে পরিবর্তিত হয়েছে, যা ধরা পড়ে।
তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রটি বিভিন্ন রেন্ট-এ-কার মালিকদের কাছ থেকে গাড়ি ভাড়া নিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে জাল মালিকানা চুক্তিপত্র তৈরি করে বিক্রি করত এবং পরে মালিকানা পরিবর্তন করে আইনি জটিলতা সৃষ্টি করত। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম সিআইডি ঢাকা মেট্রো-উত্তর ইউনিট পরিচালনা করছে।