রাজধানীর বেইলি রোড-এ অবস্থিত গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে ভবনটিতে আগুন লাগে। মুহূর্তেই ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে বহুতল ভবনটি, যেখানে একাধিক রেস্তোরাঁ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছিল। সেই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৬ জন প্রাণ হারান এবং অন্তত ২২ জন আহত হন।
ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে উদ্ধারকাজের সময় ভবনের ভেতরে পর্যাপ্ত জরুরি বহির্গমন পথ না থাকা, সিঁড়িঘরে ধোঁয়া জমে যাওয়া এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগ সামনে আসে।
ঘটনার পর গঠিত তদন্তে ভবনটির নকশা অনুমোদন, ব্যবহার সনদ, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক তদারকিতে একাধিক অনিয়ম ও গাফিলতির বিষয় উঠে আসে। তবুও দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার ও দায় নির্ধারণ শেষ হয়নি—এমন অভিযোগ স্বজনদের।
রোববার (১ মার্চ) বিকেল ৩টায় ভবনটির সামনে নিহতদের স্মরণে ফাতেহা পাঠ ও নীরবতা পালন কর্মসূচির আয়োজন করেছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি এবং রাজধানীর বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে কার্যকর অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর তদারকির আহ্বান জানানো হবে।
দুই বছর পরও পোড়া দাগ বয়ে বেড়াচ্ছে ভবনটি। প্রতিদিনের ব্যস্ত নগরজীবনের ভিড়ে ঘটনাস্থল পেরিয়ে গেলেও, স্বজনদের কাছে সময় যেন থমকে আছে সেই রাতেই। তাদের প্রশ্ন—আর কত প্রাণহানি হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তন আসবে?