যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও ক্রয় সংক্রান্ত সমঝোতা না হলে বিশ্বশান্তি ঝুঁকির মুখে পড়বে। তিনি এই মন্তব্য করেন তখন, যখন ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ডেনমার্কসহ আটটি দেশকে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়তে হবে। যদি গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণাঙ্গ মালিকানা হস্তান্তর বা বিক্রিতে ইউরোপীয় দেশগুলো একমত না হয়, তবে শুল্ক জুন থেকে ২৫ শতাংশে বৃদ্ধি পাবে।
ট্রাম্প বলেন, “চীন ও রাশিয়া গ্রিনল্যান্ড চায়, কিন্তু কেবল যুক্তরাষ্ট্রই এই খেলা খেলতে পারে।” তিনি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকে নতুন “গোল্ডেন ডোম” প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ সক্ষমতা ও কার্যকারিতা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিবিসির অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক বলেন, ট্রাম্পের এই হুমকি নজিরবিহীন এবং বাস্তবতা-বিবর্জিত। এতে আটটি দেশের কর্মকর্তারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন, এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার মূলত গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের জনগণের।
এদিকে, ট্রাম্পের দাবির পর গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন। তাদের হাতে বিভিন্ন ব্যানারে লেখা ছিল, “গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীর জন্য” এবং “গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়”।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ প্রস্তাবের বিরোধিতাকারী ইউরোপের আট মিত্র দেশের ওপর শুল্ক হুমকির পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতরা জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠকটি রোববার আরও পরের দিকে অনুষ্ঠিত হবে।