বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

গেম অব থ্রোনসের প্রিকুয়েলে আপত্তিকর দৃশ্য, হতবাক খোদ লেখকও!

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬

গেম অব থ্রোনসের প্রিকুয়েলে আপত্তিকর দৃশ্য, হতবাক খোদ লেখকও!
অনাকাঙ্ক্ষিত, আপত্তিকর দৃশ্যের কারণে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে জনপ্রিয় সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এর নতুন প্রিকুয়েল ‘এ নাইট অব দ্য সেভেন কিংডমস’। এ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠলে এর ব্যাখ্যা দেন সিরিজটির লেখক জর্জ আর.আর. মার্টিন। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেও হতবাক!

সিরিজটির শুরুতে এমন দৃশ্য দর্শকেরাও হয়তো আশা করেনি। শো-টির সিজন প্রিমিয়ার শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মাথায় দেখা যায়, একজন যাযাবর তরুণ যোদ্ধা স্যার ডানকান (পিটার ক্ল্যাফি) তার মেন্টর (দীক্ষাগুরু) স্যার আরলানের মৃত্যুতে শোক পালন করছেন। তার কিছুক্ষণ বাদেই আবহ সংগীত হিসেবে বাজতে শুরু করে এইচবিও-র সেই আইকনিক ‘গেম অব থ্রোনস’-এর থিম সং। ঠিক যখন সংগীতটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে শুরু করে, তখনই সুরটি থেমে গিয়ে একটি অভাবনীয় দৃশ্য দেখা যায়— যেখানে ডানকানকে সরাসরি চাপ নিয়ে শৌচকর্ম করতে দেখা যায়।

কিন্তু সিরিজটির লেখক সংবাদ মাধ্যমে দাবি করেন, এমন দৃশ্য থাকবে, তিনি নিজেও ভাবেননি। দ্য হলিউড রিপোর্টারকে লেখক জর্জ আর.আর. মার্টিন বলেন, বিষয়টি আমার কাছেও ধাক্কা লাগার মতো। আমার চরিত্রগুলো শৌচকর্ম করে না, আসলে এসব নিয়ে আমি বিস্তারিত লিখি না। যখন আমি রাফ কাট দেখলাম, তখন আমি বলেছি, ‘এটা কী? এটা কোথা থেকে এল- আমি জানি না। এই দৃশ্যটা কি সত্যিই দরকার ছিল?’

এ নিয়ে সিরিজের নির্মাতা ও প্রযোজক আইরা পার্কার জানান, ডানকানকে একজন ‘পারফেক্ট হিরো’ হিসেবে দেখানোর বদলে সাধারণ রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে তুলে ধরতেই এই সিদ্ধান্ত। বলেন, ডানকান এখনো কোনো বীর নয়, সে কেবল একজন ভয় পাওয়া কিশোর যার পেট খারাপ হয়েছে। আমরা বোঝাতে চেয়েছি যে কোনো বড় কাজ করার আগে মানুষের মনে যে ভয় কাজ করে, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ।

উল্লেখ্য, জনপ্রিয় সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এর অফিসিয়াল প্রিকুয়েল ‘এ নাইট অব দ্য সেভেন কিংডমস’। সিরিজের ঘটনাপ্রবাহ মূল কাহিনির প্রায় ৯০ বছর আগের, যখন ওয়েস্টেরসে টার্গারিয়েনদের শাসন চলছিল। সিরিজটি জর্জ আর আর মার্টিনের জনপ্রিয় ‘ডাঙ্ক অ্যান্ড এগ’ নভেলার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। নির্মাতা জানিয়েছে, তারা উপন্যাসের প্রতি বিশ্বস্ত থেকেই গল্পটি সাজিয়েছেন এবং বড় কোনো পরিবর্তনের চেয়ে ছোট ছোট মুহূর্ত দিয়ে চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করার চেষ্টা করেছেন।