২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের ২১টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও অনুপস্থিতির হার—দুটিই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ভর্তি পরীক্ষার কোর কমিটির সচিব এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক জানান, ‘সি’ ইউনিটে মোট আবেদনকারী ছিলেন ৯৩ হাজার ১০২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ৭৬ হাজার ৭৬২ জন শিক্ষার্থী। উপস্থিতির হার দাঁড়িয়েছে ৮২ দশমিক ৪৫ শতাংশে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় বেশ সন্তোষজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে অন্যদিকে, পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেছেন ১৬ হাজার ৩৪০ জন ভর্তিচ্ছু, যা মোট আবেদনকারীর ১৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এত বিপুল সংখ্যক অনুপস্থিতির পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে—যেমন একাধিক ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচির সংঘর্ষ, দূরবর্তী কেন্দ্রে যাতায়াতের সমস্যা, কিংবা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কেন্দ্রে উপস্থিতির হার ছিল আরও বেশি। এখানে ৯ হাজার ১৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭ হাজার ৯২৯ জন অংশগ্রহণ করেন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৮৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ২০৪ জন। এই উপস্থিতির হার কেন্দ্রটির পরীক্ষার পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, চলতি শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ পদ্ধতিতে মোট আবেদন করেছেন ২ লাখ ৮৪ হাজার ৪৮০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে (বিজ্ঞান) আবেদন করেছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ২৪০ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৯৩ হাজার ১০২ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ২৫ হাজার ২১৬ জন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইউনিটের লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
আগামী ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে ‘এ’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) ব্যবহারিক পরীক্ষা এবং আর্কিটেকচার বিভাগের পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবহারিক পরীক্ষা। ফলে ভর্তি পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি, বরং গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সামনে রয়েছে।
সার্বিকভাবে, এবারের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তবে অনুপস্থিতির হারও ভবিষ্যতে আরও বিশ্লেষণের দাবি রাখে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।