ফিলিস্তিনের গাজার স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার আগ্রহকে বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের সঙ্গে জড়িত এবং এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো উপমহাদেশের জন্যই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বাম ও মধ্যপন্থি তরুণদের উদ্যোগে গঠিত নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন’ (এনপিএ)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ফরহাদ মজহার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নির্দেশিত পথে গাজা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আন্তর্জাতিক সেনাবাহিনী গঠনের প্রস্তাব এসেছে। এ বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ফরহাদ মজহারের ভাষায়, “এটা খুবই বিপজ্জনক একটি সিদ্ধান্ত।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে ৫ আগস্টের পর যে রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটেছে, তা একান্তই সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই রূপান্তর পুরো উপমহাদেশের জন্য ইতিবাচক নয়।”
এনপিএ গঠনকারী তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক লড়াই শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক লড়াইয়ে জয়ী হতে হলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট আত্মসমালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
তরুণদের বিভিন্ন রাজনৈতিক উদ্যোগের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা জানিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের প্রসঙ্গে শব্দচয়নেও সতর্ক থাকা দরকার। তিনি বলেন, এটি ভারতের জনগণের আধিপত্য নয়, বরং “দিল্লির আধিপত্যবাদ”। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ গণতান্ত্রিক ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, যারা বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রভাবের বিরোধিতা করে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে গাজা ইস্যুতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।