জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রয়োজনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংসদ ও রাজপথ একাকার হয়ে যেতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কিছু নেতাকে সংসদে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে, তবে রাজপথে আন্দোলন থামানো সম্ভব নয়।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশটির আয়োজন করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, সংসদে তাদের অবস্থান রয়েছে মূলত জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে। অন্যদিকে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভিন্ন নেতারা, যার মধ্যে তিনি মামুনুল হক এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী-এর নাম উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন,
“প্রয়োজনে রাজপথ আর সংসদ একাকার হয়ে যাবে।”
দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যায় সাধারণ মানুষ চাপে আছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার চেষ্টা করলেও সরকার বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে।
সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তবে জনগণ এসব ‘পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো’ মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করা হলে রাজনৈতিক পরিণতি কঠিন হবে। তার দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা শক্তির মাধ্যমে গণরায় অগ্রাহ্য করা হলে তার জবাব জনগণ দেবে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা, যার মধ্যে ডা. শফিকুর রহমান, কর্নেল অলি আহমদসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।