বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

গণঅভ্যুত্থানের পরও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথচলা অসম্পূর্ণ : সুজন সম্পাদক

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনো শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন গণতান্ত্রিক উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলেও, কেবল নির্বাচন আয়োজন করলেই গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় না। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে গভীর আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।

গতকাল (রোববার) সুজন সিলেট জেলার উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, যার মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতন ঘটে। তবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি। নির্বাচন ব্যবস্থার পরিশুদ্ধকরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের মধ্য দিয়েই একটি সাম্যভিত্তিক ও ন্যায়বিচারপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি অতীতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হয়নি। সে কারণে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তা এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে সুজন সম্পাদক বলেন, কমিশনকে অবশ্যই শক্তিশালী, স্বাধীন ও দায়বদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে গণতন্ত্র চর্চা নিশ্চিত করা, আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং দুর্বৃত্তদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি নাগরিক সমাজের ভূমিকাও তুলে ধরেন। নাগরিক সমাজকে ক্ষমতার অনুগত ‘ল্যাপ ডগ’ নয়, বরং রাষ্ট্র ও সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিতকারী ‘ওয়াচ ডগ’-এর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান ড. বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকা ছাড়া গণতন্ত্রের কাঙ্ক্ষিত উত্তরণ সম্ভব নয়।