বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

‘খেলা হবে’ থেকে ‘খেলা শেষ’? পশ্চিমবঙ্গে বদলে যাচ্ছে রাজনীতির সমীকরণ

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে একসময় ব্যাপক আলোড়ন তোলা ‘খেলা হবে’ স্লোগান এখন যেন নতুন অর্থ নিতে শুরু করেছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভাইরাল হওয়া এই গানটি লিখেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা Debangshu Bhattacharya। সেই গানকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক উত্তেজনা ও উন্মাদনা। কিন্তু পাঁচ বছর পর সেই একই নাম এখন রাজনৈতিক বাস্তবতার ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।

তৃণমূল কংগ্রেস এবার চুঁচুড়া আসনে বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদারকে সরিয়ে প্রার্থী করে দেবাংশু ভট্টাচার্যকে। দলটির প্রত্যাশা ছিল, ‘খেলা হবে’ গানের স্রষ্টা হয়তো হুগলি জেলায় নতুন করে রাজনৈতিক ম্যাজিক দেখাতে পারবেন। কিন্তু প্রাথমিক ফলাফলের ইঙ্গিত বলছে, সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ‘বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি’ অঞ্চলেও দলটির আধিপত্য কমতে শুরু করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি জেলা হলো—Kolkata, Howrah, Hooghly, North 24 Parganas এবং South 24 Parganas। এই অঞ্চলেই মূলত রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের হিসাব নির্ধারিত হয়।

২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য এই অঞ্চলে ভালো ফল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার সেই লক্ষ্যেই তৃণমূলের ঘাঁটিতে বড় ধরনের অগ্রগতি দেখিয়েছে Bharatiya Janata Party (বিজেপি)।

প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, প্রেসিডেন্সি বিভাগে বিজেপির আসন সংখ্যা ১৪ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪-এ। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা অর্ধেকের বেশি কমে এখন ৫১-এ নেমে এসেছে। যা রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

এই অঞ্চলে মোট ১০৫টি আসন রয়েছে। গত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এখানে ৯০টি আসনে জয়লাভ করেছিল, যেখানে বিজেপির ছিল মাত্র ১৪টি আসন। এবার সেই চিত্রে নাটকীয় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

মেদিনীপুরসহ তফসিলি জাতি ও উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি হাওড়া উত্তর ও দক্ষিণ আসনেও গেরুয়া শিবিরের অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র যেমন শ্যামপুকুর, এন্টালি, বেলেঘাটা ও মানিকতলাতেও বিজেপি এগিয়ে রয়েছে।

এছাড়া দমদম ও দমদম উত্তর আসনেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে ডায়মন্ড হারবার আসন। এটি তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সেখানে এবার বিজেপির প্রার্থী এগিয়ে থাকায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভোটগ্রহণ চলাকালে কিছু এলাকায় সংঘর্ষ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ফলতা কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে, কলকাতার প্রাণকেন্দ্র Bhabanipur আসনেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী Suvendu Adhikari-এর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। ‘খেলা হবে’ স্লোগান দিয়ে যে লড়াই শুরু হয়েছিল, এখন তা যেন ‘খেলা শেষ’-এর দিকে এগোচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।