বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

খুলনায় ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল কয়টায়, নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে খুলনায় ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি, আত্মত্যাগ ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা ধারণ করে মুসলিম সম্প্রদায় উদযাপন করবে ইসলামের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। উৎসবকে কেন্দ্র করে খুলনা মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং জনসেবামূলক নানা উদ্যোগ।

খুলনা প্রশাসনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, এবার খুলনায় পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায় খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে সেখানে মহিলাদের জন্যও পর্দাসহ পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে খুলনা টাউন জামে মসজিদে তিনটি পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় এবং তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া খুলনা আলিয়া মাদরাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। খুলনা সিটি করপোরেশন পরিচালিত বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমপ্লেক্সেও দুটি পৃথক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদেও সকাল ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে নগরীর প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পতাকা এবং ‘ঈদ মোবারক’ ব্যানার দিয়ে সাজানো হবে। পাশাপাশি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, আশ্রয়কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।

নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মহানগর ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি টার্মিনাল, রেলস্টেশন, বাস ও নৌঘাটে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। অজ্ঞান পার্টি, ছিনতাইকারী, পকেটমার ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পরিচালনা করা হবে বিশেষ অভিযান।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদের সময় আতশবাজি, পটকা ফোটানো, উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং সড়ক অবরোধ করে স্টল নির্মাণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঈদের রাতে নদীপথে পণ্যবাহী জাহাজ, বালুবাহী নৌযান ও স্পিডবোট চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

কোরবানির পশু জবাইয়ের পর দ্রুত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই এবং পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ঈদ উপলক্ষে নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আত্মত্যাগ ও মানবসেবার মানসিকতা গড়ে তোলা। ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।